সায়রে গর্জন । পর্ব - ০৬
একবছরের একটা মেয়েকে মা চেয়ারে বসিয়ে অন্যদের সাথে গল্প করছে। ফুটফুটে মেয়ে, গোল গোল চোখ।হাসলেই মনে হয় হাতছানি দিয়ে ডাকছে। মা আর মেয়ের দূরত্ব প্রায় দু হাত।মেয়েটির হাতের খেলনাটি নিচে পড়ে গিয়েছে।মায়ের সেদিকে খেয়াল নেই। মেয়ে খেলনা নেয়ার জন্য নিচে নামার চেষ্টা করছে।আরেকটু পেছনে গেলেই পড়ে মাথা ফেটে যাবে। চেয়ারের সামনে ক্যামেরার প্লাগ এবং বিদ্যুৎ সংযোগের সকল তার। এমন দুঃসহ মুহুর্তে কি করে মা অমনোযোগী হতে পারে। বিবেক কি করে দিলো এই জায়গায় চেয়ারে মেয়েটাকে বসানোর জন্য! এতটাই কেয়ারলেস!
প্রায় অনেকেই থমকে গিয়েছে অথচ মেয়ের মায়ের হুঁশই নেই, গল্প করেই যাচ্ছে। মেয়েটা পড়েই যাচ্ছে প্রায়। শাহাদ পায়ের স্পিড বাড়িয়ে দিলো। এতটা তীব্র গতিতে রেস ও লাগায় নি কখনো। বাঘের গতির মত ক্ষীপ্র দৌঁড়। ওয়েটাররা ভয় পেয়ে ছিটকে গিয়েছে। বরের জিনিস পত্র রাখার জন্য ডেকোরেশন টেবিল ছিলো সামনে,ওটার উপর উঠে লাফ দিয়ে একটা চেয়ারে পা দিলো ,আরো দুটো চেয়ার অতিক্রম করলো দুই লাফে। সোজা রাস্তায় হাঁটার উপায় নেই এত মানুষ। কৌতুহলী মানুষ না সরে ভিড় করছে। অনেকের চক্ষু ছানাবড়া। একেবারে সন্নিকটে এসে মেয়েটাকে ধরে ফেললো, হাতের বাহুতে ধরে এক টানে কোলে তুলে নিলো।
এমন ভাবে ধরলো বাচ্চাটাকে, বাচ্চা থেকে ইলেকট্রিক প্লাগের দূরত্ব চার কি পাঁচ ইঞ্চি। বুকে জড়িয়ে ধরলো ছোট্ট পুতুলটাকে। সাথে সাথে ভয় পেয়ে চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠলো বাচ্চামেয়েটা । শাহাদের দম আটকে গিয়েছে। এই বাচ্চা মেয়েটার জায়গা অল্প কিছুক্ষনের জন্য হলেও শেহজাকে কল্পনা করে ফেলেছে। আজ বুঝতে পারছে মেয়েটা ওর জন্য কি? বুকের ধুকপুকানি এখনো কমে নি। উপস্থিত প্রত্যেকে মুগ্ধ হয়ে দেখছে শাহাদকে। মেয়ের মায়ের চোখে পানি। মা এগিয়ে আসতেই শাহাদের কাছে মেয়েকে চাইলো। বুক থেকে সরিয়ে মেয়েকে মায়ের কাছ দিতেই বলে দিলো, সাবধানে।
অন্য সময় হলে এই মহিলার মেয়েলী গালে হয়তো নিজের পাঁচ আঙুল বসাতো। এই অবস্থায় নিজেই স্থির নেই।সেখানে অন্য কিছু মাথাতেই আসছেনা।শাহাদ জায়গায় দাঁড়িয়ে স্তব্ধ।কি ঘটে যেত! সকলে শাহাদের কাছে এগিয়ে এলো। চারদিকে গুঞ্জন। শাহাদকে বাহবা দিচ্ছে। প্রবল বিরক্ত শাহাদ। মানুষের দু মুখো রূপ।খেয়াল অনেকেই করেছে। দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যায়নি বাচ্চাটাকে ধরতে। এলিন,রোকেয়া আক্তার ও এলো। শাহাদ পকেট থেকে ফোন বের করে বাসায় ফোন দিচ্ছে। কেউ ফোন ধরছে না। ল্যান্ডলাইনে ফোন দিলো তবুও ফোন ধরছেনা। উপায় না পেয়ে ফোন দিতে গেলো দিয়াকে। কিন্তু দিয়ার ফোন নাম্বার যে ফোনে নেই। অকস্মাৎ পাভেলকে ফোন দিয়ে ভেতরে আসতে বললো।দেলোয়ার হোসেন চিন্তিত গলায় বললো, কি হয়েছে শাহাদ তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেনো?
শাহাদ যেন এই দুনিয়াতে নেই। কেমন বোকা সোকা চেহারা করে তাকাচ্ছে। চিন্তিত অবস্থা দেখে দেলোয়ার সাহেব এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিলেন। অন্য অফিসার, নেতা-কর্মী, মন্ত্রীরা এগিয়ে এলেন। এমন সময় পাভেল ভেতরে আসলো। শাহাদ পাভেলকে বললো, পাভেল তোমার ম্যাডামকে কল দাও।
পাভেল হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে আছে। ম্যাডামকে কি করে কল দিবে! এ যাবৎকালে এমন কথা বলেনি শাহাদ। বউকে যেখানে কাউকে দেখায়নি সেখানে বউয়ের ব্যক্তিগত নাম্বার পি এসের কাছে কিভাবে থাকবে! এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে শাহাদ পুনরায় ধমকে বললো, কি হলো চুপ করে দাঁড়িয়ে আছো কেনো?
স্যার আমি ম্যাডামের নাম্বার কিভাবে পাবো?
আমি এত কথা জানিনা বাসায় ফোন দাও।কেউ ফোন ধরছে না কেনো?
এমন সিচুয়েশনে এর আগে কখনো পড়েনি পাভেল।কেউ ফোন না ধরলে ওর ফোন কিভাবে ধরবে। এমন সময় হঠাৎ মাথায় এলো নিশাদের কথা। এয়ারপোর্টে নিশাদের নতুন সিম কিনে দিয়ে সব সেট করে দিয়ে ওর কাছ থেকে নাম্বার নিয়েছিলো। নিশাদকে ফোন দিতেই নিশাদ ফোন ধরে।
হ্যালো নিশাদ, ম্যাডাম আছে বাসায়?
হ্যা বলো, কোন ম্যাডাম?
দিয়া ম্যাডাম।
আছে তো।
ম্যাডামকে দাও।
পাভেল বাসায় ফোন দিতেই শাহাদ অপেক্ষা করছে। মনে মনে চাইছে যেন কেউ একজন ফোন ধরে। পাভেল ফোন এগিয়ে দিলো শাহাদের দিকে।এমন সময় দিয়া ফোন ধরে বললো,
আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।
শাহাদ প্রশ্ন করে বসলো,
ফারাহ, আমার শেহজা কেমন আছে?
প্রায় দু বছর! হ্যাঁ ঠিকই তো দু বছর পর মানুষটা নাম সেই নামে ডাকলো। পুরোপুরি চমকিত, ধমনী,শিরা বেয়ে প্রবাহিত হচ্ছে শীতল রক্ত।স্পষ্ট টের পাচ্ছে শারীরিক কম্পন।উত্তর দিতে চাচ্ছে তবুও গলা দিয়ে শব্দ বের হতে নারাজ।হারিয়ে গিয়েছে বর্ণমালা।এলোমেলো অক্ষরগুলো শব্দজোট করতে ব্যর্থ। শীতল ছোঁয়া কায়া জুড়ে। বড্ড ভালোবেসে দিয়াকে ফারাহ নামে ডেকেছিলো শাহাদ। পুনরায় প্রশ্নে সম্বিত ফিরে পেয়ে বলে, আগের চেয়ে আলহামদুলিল্লাহ ভালো,কিন্তু গায়ে জ্বর।
- ওকে রেডি করো।আসছি আমি। হাসপাতালে নিয়ে যাব। ফোন কেটে পাভেলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে দেলোয়ার হোসেনকে বলে, স্যার আমার মেয়েটার অবস্থা ভালো না। আমি আজ যাই। আরেকদিন আসবো।হাসপাতালে যেতে হবে। দেলোয়ার সাহেব চিন্তিত হয়ে বললো, তোমাকে আটকাই কি করে বলোতো।এমন একটা দিন আমি যেতে পারছিনা। স্যার সমস্যা নেই।আমি জানাবো আপনাকে।ম্যাডাম আসি।আমার মেয়েটার জন্য দোয়া করবেন।
শাহাদ কোনোরকম বেরিয়ে এলো। সচেষ্ট ব্রেন এত দ্রুত কি করে তেজহীনভাবে জমাট বেঁধে গেলো বুঝতে পারছেনা। মেয়েটা তার এতটা জুড়ে আছে। প্রতিটি কদম যেন কয়েকটা দিন। গাড়ির কাছে পৌঁছেছে মিনিট গতিতে। পাভেল তাল মিলিয়ে পারছিলোনা। এলিন বাবার দিকে তাকিয়ে বলে, পাপা উনি কি ম্যারিড! হ্যাঁ মেয়েও আছে ছোট এক বছর মনে হয়।
দেলোয়ার সাহেব মেয়ের দিকে তাকিয়ে বুঝলো মেয়ে কি যেন বিড়বিড় করছে। এলিন অবাক হলোনা। একজন সুদর্শন, সুপুরুষের বিয়ে হতেই পারে।স্ত্রী থাকতেই পারে কিন্তু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। খানিকের জন্য হলেও এই লোকটার মোহে নিজেকে বেঁধে ফেলেছিলো। কারো মায়ায় পড়া যতটা সহজ,মায়া কাটানো ঠিক ততটাই কঠিন। অথচ প্ল্যান ও করে নিয়েছিলো বাবাকে জানাবে উনাকে পছন্দ হয়েছে।ব্যাক্তিত্বের প্রেমে পড়ে গিয়েছে তার। এভাবে কেউ হল মাতিয়ে অন্যের বাচ্চার জন্য ছুটতে পারে ভাবতেই মন থেকে শ্রদ্ধাবোধ জেগে উঠলো।
পাভেলকে সরিয়ে আজ নিজেই ড্রাইভ করছে শাহাদ। এলোমেলো ড্রাইভ করছে। স্পিড ১২০। পাভেলের বুকে ধুকপুক বেড়ে গিয়েছে। ১২০ মানে রাস্তার সব গাড়ি ওভারটেক করছে।উদ্ভ্রান্তের মতো চালাচ্ছে গাড়ি। পাভেল মনে মনে দোয়া পড়ছে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মদূর রাসুলুল্লাহ।
হার্ড ব্রেক কষেছে এর মধ্যে দুবার। আজ বুঝি প্রাণ পাখি গেলো! স্যারের এমন উদ্ভ্রান্ত আচরণ দেখে গাড়ির সামনে রাখা পুরো পানির বোতল শেষ। পাক্কা এক ঘন্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট ড্রাইভ করে বাড়ির সামনে থেমেছে গাড়ি।ফ্রন্ট ডোর খুলে গাড়ি থেকে নেমে দৌঁড় দিলো। কিভাবে দৌঁড়াচ্ছে নিজেও জানেনা। লম্বা পা ফেলে সিড়ি বেয়ে উঠে দরজায় বেল চাপলো। শিফা দরজা খুলে দিলো। ড্রইং রুমে সবাই বসে আছে। শেফালীর কোলে শেহজাকে দেখে কথা না বলে হাত বাড়িয়ে মেয়েকে কোলে নিলো।বুকের সাথে ধরে মেয়েটার পুরো মুখ আদর দিচ্ছে। মেয়েও বাবাকে ধরে চুপ করে আছে।শরীর হালকা গরম। মেয়েকে বলছে, আম্মা চলেন আমরা হসপিটালে যাব। বাবা মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো, আব্বু আমি ওকে নিয়ে একটু ডাক্তার দেখিয়ে আসি। রায়হান সাহেব বিচলিত হয়ে বলে, - কি হয়েছে এভাবে হাঁপাচ্ছো কেনো? এত রাতে নিবে? তাহি এসেছিলো দেখে গিয়েছে ওকে।
শাহাদ মেয়েকে বুকে চেপে ধরে চুপচাপ বসলো সোফায়। এখনো বুকের পাশটা ব্যাথা করছে মনে হচ্ছে। আজ যদি ওই বাচ্চাটা পড়ে যেত। শেহজা বাসায় থাকে। বাসার মানুষ জন কত কাজে এদিক সেদিক যায়। হয়তো মেয়েটাকে খেলতে দিয়ে যে যার যার কাজ করে, কে নিবে শেহজার নিরাপত্তার দায়িত্ব। আজ হঠাৎ এমন গোলমেলে লাগছে কেনো। শেহজাকে বুকে নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। সবার উদ্দেশ্যে বলে, শেহজা আজ থেকে আমার কাছে থাকবে। সুলতানা কবির বলে উঠলো, শেহজার মা কোথায় থাকবে?
শাহাদ আশপাশ তাকিয়ে দেখলো ফুফুদের কেউ নেই।সবাই হয়তো ক্লান্ত। যে যার যার মত রেস্ট নিচ্ছে। শাহাদ নিজেকে শান্ত করে বললো, সে তার নিজের রুমে থাকবে। ফিডিং কে করাবে শেহজাকে? জানিনা ব্যবস্থা করুন। শেহজাকে আমি আমার কাছে রাখবো এটাই শেষ কথা। তাহলে ওর মাকে ও রাখো। নাহ। আমার রুমে আমি এমন কোনো নারীর স্থান দিব না যে আমার নয়।
দিয়া হাসছে মনে মনে। অদ্ভুত ভাবে তার মনে এক অবাস্তব ভাবনা এসেছিলো। শাহাদের ওই সময়ের সম্বোধনে ভেবেছিলো এবার বুঝি শাহাদ ফিরে তাকালো। বিশ্বাস কখনো ফেরে না যদি শক্তিশালী প্রমাণ না থাকে। দিয়ার কথা বাড়াতে মন চাইছেনা। সে নিজেই চাইছে শেহজার দায়িত্ব কেউ যেন শক্ত পোক্তভাবে নেয়। ওর বাবাই চাইছে।৷ দিয়া শাশুড়িকে বললেন, আম্মু চিন্তা করবেন না আমি ব্যবস্থা করে রাখবো।
যে যার মত রুমে চলে গেলো। দিয়া নিজের রুমে এসে থ মেরে বসে আছে। নিজেকে আজ এই পরিবারের সবচেয়ে উচ্ছিষ্ট বস্তু লাগছে। মন চায় চিৎকার করে বাবার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়তে, কারো বুকে ভরসায় মাথা রাখতে।
রাত দুটো। মেয়েটা একটু পর উঠবে। পাম্প দিয়ে ব্রেস্ট মিল্ক বেবি ফিডারে দিয়ে দিল। শাহাদের দরজা নক করতেই রুমে প্রকান্ড দরজা খুলে উদাম গায়ে,ছাই রঙা ট্রাউজারে শাহাদ বেরিয়ে এলো৷ দিয়া চোখ নামিয়ে শেহজার পিডার বাড়িয়ে দিল। শাহাদ ফিডার নিয়ে দিয়ার দিকে তাকালো। একেবারে চোখের মনিতে দৃষ্টি। একটু ও দৃষ্টি লুকালোনা। আচমকা মুখের উপর ঠাস করে দরজা আটকে গেলো।
গত দুদিন ধরে এভাবেই দিয়া রাতে খাবার দিয়ে আসে। মেয়েটা রাতে মাকে খুঁজে বেড়ায়। আজ রাতেও পিডার দিতে এসেছে। আজ মেয়েটার জন্য খুব খারাপ লাগছে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ঘড়িতে একটা ত্রিশ। শাহাদের দরজা নক করতেই দরজা খুলে ওর কাছ থেকে পিডার নিয়ে দরজা আটকে দিলো। পুনরায় নক করলো। দিয়া ভয়ে ভয়ে বললো, আজকে রাতটা শেহজাকে দিবেন? আমার ওর জন্য কষ্ট হচ্ছে। পেছন থেকে তেতে উঠা গলায় কেউ একজন বলে উঠলো,
এখানে কি করো তুমি, আমার ভাইয়ের ঘুম হারাম করছো কেনো? তাকিয়ে দেখে শেফালী। দিয়ার এত খারাপ লাগলো চোখের পানি ফেলে দিলো। শাহাদ বোনের দিকে তাকিয়ে বলে,
কি সমস্যা, এখানে কি করছো?
ভাইজান,আবিরের জন্য পানি নিতে আসছিলাম।
ঠিক আছে।
শেফালী চেঁচিয়ে বলে উঠলো দিয়াকে,
এই তুমি যাও। এখানে কি?
শাহাদ প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে বোনকে ধমকে বললো,
শেফালী তোমার কি মনে হচ্ছে না তোমার স্পর্ধা বেড়ে গিয়েছে। গলা নামাও। সম্পর্কে তোমার ভাবীজান। আমি নিশ্চয়ই তোমাকে এখন কার্টেসি শেখাতে হবেনা?
দিয়াকে ধমকে বললো,
রুমে যাও। প্রয়োজন হলে ডাকবো।
মুখের উপর দরজা টা লাগিয়ে দিলো। দিয়া আর এক মুহুর্ত না দাঁড়িয়ে নিজের রুমে চলে গেলো। শেফালী একটা তীক্ষ্ণ হাসি দিলো। কত বড় বেহায়া হলে এত বড় অপমানেও হাসে। হাসবে নাই বা কেনো! যতই অপমান করুক ওই মেয়েকে রুমে জায়গা তো দেয় নি। সফল হওয়ার আরেকটি ধাপ। যা চেয়েছিলো মনে মনে তাই হচ্ছে। রুমে এসে দেখে ছেলে ঘুমাচ্ছে। ফোনটা হাতে নিলো। নাম্বার ডায়াল করে বারান্দায় চলে গেলো। বারান্দায় একটা চেয়ারে বসে সব রকমের কুটিল চিন্তার একটা নীল নকশা তৈরি করলো। কল রিসিভ হলো, এত রাতে?
যতই ভাইজান থেকে গেঁয়ো মেয়েটাকে দূরে রাখতে চাচ্চি ততই গা ঘেঁষে যাচ্ছে। ও আমার সুখ নষ্ট করেছে,আমি ওর নষ্ট করবো। দু বছরে তো কিছুই পারো নি। বললাম বিচ্ছেদ ঘটাও। ও না গেলে আমি আসবো কি করে? ঝামেলা তো করছে মেয়েটা। ওটা না হলে তো এতদিনে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতাম। দুধ খায় তাই পারছিনা কিছু করতে৷ কত অনাথ বাচ্চা রাস্তা ঘাটে আছে, ওরা কি মা ছাড়া বড় হচ্ছেনা। তুমি আসলে একটা গণ্ডমূর্খ। কোনো কাজ হবে না। আরেকটু সময় দাও। এই বছরের মধ্যে একটা ব্যবস্থা করছি।
ফোন কেটে গেলো। শেফালী এবার শক্ত পোক্তভাবে নেমে পড়বে। এভাবে হলে তো সব ওর হাতছাড়া হয়ে যাবে। বাবা - ভাইয়ের সম্পত্তির অভাব নেই। ওর শ্বশুরবাড়ির লোকজন ছিলো অল্প আয়ের মানুষ। তাও স্বামীটা যদি থাকতো সংসার করার কথা ভাবতো।স্বামী যেখানে নিখোঁজ সেখানে কিসের সংসার। তবে এই সংসারে শুধু ওর রাজত্ব চালাবে। এখানে থেকে আর কোথাও যাওয়া যাবেনা। আবিরের নামে সব করতে হবে। প্রথমে ওই দিয়াকে,পরে ওর মেয়েকে চিরতরে এই বাড়ি থেকে সরাবে।
চলবে...
