সায়রে গর্জন । পর্ব - ০৫

ডাইনিং এ সবাই সন্ধ্যার নাস্তা খাওয়ার জন্য বসেছে।টেবিলে সাজানো আছে হরেক রকম খাবার।আজ সব খাবার সুলতানা নিজে রান্না করেছে ছোট ননদের জন্য। সাহায্য করেছে শিফা আর নিশি। সুলতানা কিছুতেই দিয়াকে কাজ করতে দিবেনা। বসিয়ে রেখেছে ডাইনিং এ। রায়হান সাহেব এসেছেন কিছুক্ষন আগে। সবার সাথে গল্প করছেন। শিফা ডেকে এসেছে বড় ভাইজানকে। শাহাদ মেয়েকে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসলো। একেবারে স্যুটেড বুটেড হয়ে। কালো ব্লেইজার,ভেতরে অফ হোয়াইট শার্ট, কালো ফরমাল প্যান্ট। শার্টের উপর দুটো বাটন খোলা।

ব্লেইজারের কলারে ব্রুচ লাগানো। চুল গুলো সেট করা। চশমাটা পরিবর্তন করেছে। রিমলেস পরেছে আজ। কোথায় যাচ্ছে মানুষটা। দিয়া এক নজর তাকিয়ে চোখ নামিয়ে টেবিলে হেড ডাউন করে রেখেছে। শাড়ির আঁচল তুলে ঘোমটা টেনে রেখেছে চোখ নত। তাকাবেনা নিষিদ্ধ জিনিসের দিকে। বুকের ভেতরটা আজ চিনচিন করে উঠলো। এই মানুষটা কেনো তাকে ভালোবাসতে পারলোনা। সে কি ভালোবাসার যোগ্য ছিলোনা! একমাত্র মেয়ে শেহজাকে আদরে আদরে ভরিয়ে দেয় অথচ শেহজার গর্ভধারিনী মায়ের দিকে ফিরেও তাকায় না। বুকের গহীন থেকে উৎপন্ন দীর্ঘশ্বাস আজ পরিবেশ ভারী করে রেখেছে। রায়হান সাহেবের প্রশ্নে ধ্যান ভাঙ্গে দিয়ার, কোথাও কি যাচ্ছ তুমি?শাহাদ মেয়েকে পুনরায় আদর করে শিফার কোলে দেয়।

বাবাকে উদ্দেশ্য করে জবাব দেয়, বানিজ্যমন্ত্রীর মেয়ের বিয়ে। আমার ফিরতে দেরী হবে। আপনারা খেয়ে ঘুমিয়ে যাবেন। শাহাদ মেয়ের গালে চুমু দিয়ে বেরিয়ে গেলো। মঞ্জিলা ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো, শাহাদের ভরা সংসার দেখেই আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো লাগছে ভাইয়া। রায়হান সাহেব চিন্তিত। উনার নিরবতা দেখে সুলতানা মুখ খুলবে তখনই দিয়া বলে উঠলো, আম্মু আমি রুমে যাই,শেহজাকে খাওয়াতে হবে।

সুলতানা কবিরের সম্মতি দেখে স্থান পরিত্যাগ করলো দিয়া। এখন হয়তো সেখানে সকলে সাংসারিক আলোচনা করবে যা শাহাদ এবং তাকে ঘিরে। এসব শুনতে আর ভালো লাগে না। দু' দুটো বছর ধরে, স্বামী থাকতে ও না থাকার মতো একই ছাদের নিচে আছে। মেয়েরা যে সময়টা পরিবার পরিজন আপন মানুষ নিয়ে কা*টায়, দিয়া সে সময়টা পাশে কাউকে পায়নি। বিশ্বাস অবিশ্বাসের মাঝে অনেক ঘা ত, প্র/তি/ঘা/ত সে মেনে নিয়েছে। ওইদিনগুলোর কথা মনে আসলেই বুক চিড়ে কান্না আসে। মনে হয় তখনই এই হ/ত/চ্ছা/ড়া জীবনকে শেষ করে দিতে পারতো তাহলে বাকি জীবনটা আফসোসের হতো না। কিন্তু জীবনের উপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কোনো অধিকার নেই। নেহাৎ আ/ত্ম/হ/ত্যা মহাপা*প নাহয় কবে বাবা-মায়ের কাছে চলে যেত। বাবা - মা যেদিন এক্সিডেন্টে মারা যায় সেদিন চোখের সামনে শুধু অনিশ্চিত জীবন দেখেছে।

বাবা মাকে নিয়ে দেশে ফেরার পর দাদার কাছে গিয়েছিলো।দাদা বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলো না জানিয়ে বিয়ে করার অপরাধে। বাবা সেই গ্রামে নিজের নামে থাকা জমিতেই টিনের ঘর তোলে। গ্রামের কলেজে বেছে নেয় শিক্ষকতার পেশা। গ্রামের লোকজন বলতো বিদেশ থেকে এত পড়াশোনা করে আসা মানুষটা আজ গ্রামে পড়ায়। বউটা কুফা। বাবাতো বিয়ের আগেই শহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলো। সেই পেশা চাইলেই নিয়মিত করতে পারতো৷ কিন্তু তা না করে গ্রামেই পড়িয়েছে, আবাদী জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছিলো। সুখেই ছিলো। কোনো কিছুর অভাব বোধ করেনি দিয়া ছোটবেলায়। অভাবের মধ্যে ছিলো একটা ছাদ পেটানো বাড়ি। এটা ও দিয়ার বাবার ইচ্ছাকৃত কাজ।দিয়ার বাবা মুরাদ মজুমদার খুব বই পাগলা মানুষ ছিলেন। তার কয়েকটা প্রিয় উক্তির মধ্যে হুমায়ুন আহমেদের একটি ছিলো, ' পৃথিবীতে ফিনিক ফোটা জোছনা আসবে। শ্রাবন মাসে টিনের চালে বৃষ্টির সেতার বাজবে। সেই অলৌকিক সঙ্গীত শোনার জন্য আমি থাকব না।
কোনো মানে হয়... ”

দিয়ার বাবা যখন কবিতা আবৃত্তি করতেন, আমিরা তখন মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতেন।কিছু কথা বুঝতেন,কিছু বুঝার নাগালের বাইরে। তবে অনেকটা বাংলা আয়ত্ত করে নিয়েছিলো আঠারো বছরের সংসার জীবনে। আজো দিয়াদের টিনের চালে ধুপধাপ বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে। সেই সেতার শুনার জন্য কেউ নেই। মুরাদ টিনের চালে বৃষ্টির ঝনঝন করা শব্দের ভক্ত ছিলেন, পুকুর ভর্তি রাজহংসীর বিচরণ উনাকে মুগ্ধ করতো।একমাত্র কন্যা দিয়াকে নিয়ে জমির আইল ধরে হেঁটে আসতো। প্রতি শনিবার গ্রামে বাজারের দিন, বাজার করে আসার সময় দিয়ার মায়ের জন্য এক মুঠ কাচের চুড়ি নিয়ে আসতে ভুল করতোনা। মা সেই কাচের চুড়ি আগলে রেখে বলতেন, আমার দিয়ারানী যখন বড় হবে এই সব চুড়ি তার হবে।

দিয়ার মা ইরানি বংশদ্ভূত ছিলেন।মালয়েশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে এগ্রিকালচারের উপর মাস্টার্স করতে গিয়েছিলেন দিয়ার বাবা।সেখানেই পরিচয় আমিরার সাথে।এরপর সৌদিতে আসেন হজ্জ্ব পালনে। আমিরার পরিবারের সকলে থাকতেন সৌদিতে। আমিরার পরিবার মুরাদকে মেনে নিতে অগ্রাহ্য করায় পালিয়ে আসে আমিরা।আর কখনো যায়নি বাবার দেশে। সুন্দর ছিমছাম সাজানো সংসার ছিলো দিয়াদের। দিয়া মায়ের ওড়না দিয়ে বউ সাজতো। দিয়ার ইন্টার প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষ। পরদিন ঘুরতে যাবে মুরাদের ফুফুর বাড়ি।ব্যাগ গুছিয়ে বিকালের নাস্তা খেতে বসেছিলো তিনজন। বাবাকে উকিল জায়গা সংক্রান্ত কাগজ নিয়ে ফোন দিয়েছে। দিয়ার দাদাই খবর দিয়েছিলো যেতে। সাথে মাকে নিয়ে যেতে বলেছে কারণ বাবার বেশির ভাগ জায়গা মায়ের নামে লেখা।

দিয়াকে রেখে গিয়েছে পাশের বাড়ির তাহমিনা আপার কাছে। দিয়া আর তাহমিনার বয়সের ব্যবধান এক বছর। তাহমিনা গ্রামের কলেজে ডিগ্রিতে পড়ে। বাবা মা আসার আগ অবধি গল্প চলে। ঘড়িতে রাত সাড়ে দশটা। এতক্ষন খুশি হলেও এবার দুশ্চিন্তা শুরু হলো। দিয়া নিজের বাড়ির দিকে রওয়ানা দিলো দেখে আসার জন্য,বাবা মা এসেছে কিনা। সাথে এসেছে তাহমিনা এবং তাহমিনার বাবা। বাড়ির সামনে একটা সাদা হাসপাতালের গাড়ি।উপরে লাইট জ্বলে গাড়িটার। দিয়া ঠেলে ভীড়ের মধ্যে বড় উঠলো, আমার বাবাজান,আম্মিজান কি আসছে?

হ্যাঁ সেদিন দিয়ার বাবা- মা এসেছিলো। তবে পায়ে হেঁটে নয়, সাদা গাড়ির সিটে করে। একসাথে দুজনের এক্সিডেন্ট হয়েছিলো, স্পট ডেথ। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য যে দেখার মত,সহ্য করার মত ছিলোনা। কেঁদেছিলো গ্রামের প্রতিটি মানুষ। সবার একটা দুশ্চিন্তা মুরাদের মেয়েটার কি হবে! একই গ্রামে থেকে দাদাসাহেব এত বছর এড়িয়ে চললেন,ছেলের বিদায়বেলায় গগন বিদারী কান্নায় ফেটে পড়লেন।বুকে আগলে নিলেন নাতনীকে। দাদা সাহেবের জীবদ্দশায় দিয়া থেকেছে রাজকন্যার মতো। দাদীজান বিদায় নেন প্রথমে,এরপর দাদাসাহেব।ততদিনে দিয়ার বাবার জায়গা সম্পত্তি সব কিছু নিয়ে ঝামেলা চলছিলো। দিয়া এত সব বুঝে উঠতে পারছিলোনা।

শ্বশুর রায়হান সাহেবের অফিসের ম্যানেজার ছিলেন বাবার বন্ধু নওয়াজ আংকেল।তার কাছে মুরাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র থাকাতে একদিন দিয়ার চাচার সাথে দেখা করতে যায়। দিয়াকে অনেক দিন পর দেখে নিজেও কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়ে। সেবার আংকেলই ছিলো দিয়ার বিয়ের ঘটক। দরজায় কড়া নড়ার আওয়াজ পেয়ে দিয়া শেহজাকে খাওয়ানো শেষ করে উঠে বসে। একা থাকলেই রাজ্যের চিন্তা ঘিরে ধরে। নেতিয়ে পড়া শরীর নিয়ে এগিয়ে গেলো দরজার কাছে। দরজায় দাঁড়িয়ে আছে নিশি এবং শিফা। শিফা দিয়ার জন্য জুস নিয়ে এসেছে। এই মেয়ে দুটোকে অনেক আপন আপন লাগে।দিয়ার নিসঙ্গতা কেটে যাবে এখন এদের সাথে।

পাভেল গাড়ি চালাতে চালাতে নিজের বার বার রিং হওয়া ফোনের দিকে চোখ যাচ্ছে। গাড়ি চালানো অবস্থায় ফোন ধরলে বস যে হাত পা ভেঙ্গে দিবে তার ব্যাপারে সন্দেহ নেই। এই ডিফেন্স সেক্টরের লোকদের নিয়ে বড্ড ঝামেলা। এরা জন্মের পর থেকেই মনে হয় যেন নিয়ম- শৃঙ্খলা শিখে জন্ম নিয়েছে। পাভেল গাড়ি সাইডে রেখে ফোন ধরো।

আদেশ পেয়ে তড়িঘড়ি করে গাড়ি রাস্তার পাশে দাঁড় করালো। ফোন ধরে কথা শেষ করেই পুনরায় স্টিয়ারিং ঘুরালো। গাড়ি গিয়ে থামলো সরাসরি সেনা কুঞ্জে। গাড়ি থেকে নেমেই প্রবেশপথের দিকে এগিয়ে গেলো। কালো ব্লেইজারে এমন সুদর্শন পুরুষ দেখে চোখ আটকে গেলো কোনো এক তনয়ার। ঢুকতেই বানিজ্য মন্ত্রী দেলোয়ার হোসেন এগিয়ে এলেন শাহাদকে দেখে। হ্যান্ডশেক করে চমৎকার হাসি দিয়ে সবার মাঝে নিয়ে গেলেন। এখানে উপস্থিত আরো অনেক এমপি,মন্ত্রীসহ সিনিয়র নেতাকর্মী ছিলেন। বাবার সাথে প্রত্যেকের সম্পর্ক ভালো হওয়াতে সবসময় আধিক্য থাকে শাহাদের। এছাড়া একজন নেভি কর্মকর্তা হিসেবে তো গুরুত্ব রয়েছেই। প্রায় সবাই পরিবার নিয়ে এসেছে।

পরিবার নিয়ে আসো নি কেনো শাহাদ?
বানিজ্যমন্ত্রীর প্রশ্নে শাহাদ কিছুটা বিচলিত হয়ে গেলো। মুখভঙ্গি স্বাভাবিক রেখে বললো,
আমার মেয়েটা ভাইরাল সিকনেসে ভুগছে। তাই বাইরে নিয়ে আসতে চাইনি।
আ'ম স্যরি আসলে বুঝতে পারিনি।
তখনই দলের সিনিয়র নেতা পারভেজ বলে উঠলেন,
দু বছরে কোনো প্রোগ্রামেই তো দেখলাম না বউ বাচ্চাকে। আমাদের এক্স-লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাহেব বউকে লুকিয়ে রাখতে চাইছেন। দেখাবেন না।
কুটিল হাসিতে উপস্থিত অনেকেই সায় দিয়ে হাসছে। ঠান্ডা মস্তিষ্কে প্রতিউত্তর করলো,
বউ কি শোপিছ যে দেখাতে হবে। লোকে এসে দেখে যাবে আর প্রশংসা করে বলবে বাহ শাহাদের শোপিছ টা তো চমৎকার। কোথা থেকে কিনেছে! এমন কিছু কি নেতা সাহেব?আমার সম্পদ আমারই থাকুক।নিলামে উঠাবোনা।

অপমানে মুখ একদম শুকনো বেলুনের মত চুপসে গেলো।
প্রসঙ্গে পালটে শাহাদ দেলোয়ার হোসেনকে বললো,
স্যার চলুন ম্যাডামের সাথে দেখা করে আসি।
আমাকে বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েছে আসার আগে।
দেলোয়ার হোসেনের সহধর্মিণী রোকেয়া আক্তার শাহাদকে পছন্দ করে।
শাহাদকে দেখেই এসে জড়িয়ে ধরলেন। নিজের ছেলের মতো স্নেহ করেন।
দেলোয়ার হোসেনের হাসপাতালের দিনগুলোতে পরিবারের মত পাশে ছিলো।
নিজে থেকে,দলের ছেলেদের দিয়ে তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন।
দেলোয়ার হোসেন নববধূ এবং বরের কাছে নিয়ে গেলেন।
নিজেদের মধ্যে আলাপ সারতেই আত্নীয় স্বজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।
তখনই উনার ছোট মেয়ে এসে পাশে দাঁড়ায়। মেয়েকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলে,
শাহাদ আমার ছোট মেয়ে এলিন। ইউ কে থেকে মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে।
এখন পি এইচ ডির জন্য এপ্লাই করেছে। গত সপ্তাহে এসেছে বোনের বিয়েতে।
পরিচয় করিয়ে দিয়ে দেলোয়ার সাহেবের ডাক পড়লে ওদের রেখে উনি চলে যায়।
শাহাদকে দেখে এলিন হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো,
নাইচ টু মিট ইউ।
শাহাদ মুচকি হাসি দিয়ে বলে,
আসসালামু আলাইকুম। আ'ম স্যরি দিস ইজ নট মাই রিচুয়াল একচুয়েলি।আ'ম ওকে উইথ মাই সালাম।

এলিন কিছুটা বিব্রত হলো।হাত সরিয়ে মুঠ করে নিলো। সালামের উত্তর দিলো,
ওয়ালাইকুম আসসালাম। আ'ম স্যরি।একচুয়েলি আই হ্যাভ টু বি মোর কেয়ারফুল। আই ফরগোট দিস ইজ বাংলাদেশ। সো নিড টু ফলো ইট'স রিচুয়ালস।
অলসো নিড টু স্পিক ব্যাংগলি ইনফ্রন্ট অফ বাংলাদেশী সিটিজেন এন্ড ডিফেন্স অফিসার এক ওয়েল। বিকজ দে আর ঠু মাচ অবসেসড উইথ দেয়ার ল্যাংগুয়েজ।
আ'ম স্য ও রি... আমি দুঃখিত।ভীষণ ভাবে।
আমি খুব ভালো বাংলা পারি কিন্তু মাঝে মাঝে অভ্যস্ততায় ইংরেজি চলে আসে।
শাহাদ উপর নিচ মাথা নাঁড়ালো। আশপাশে মানুষের প্রচন্ড ভিড়। নিচে ছোট বাচ্চারা খেলা করছে। হঠাৎ একটা বাচ্চার দিকে চোখ পড়লো। কেমন যেন আদুরে লাগলো।
বুকের মাঝে হালকা চিনচিন করে উঠলো। কেনো যেনো কষ্ট হচ্ছে।
পাশে হাঁটছে এলিন। এলিন বক বক করেই যাচ্ছে। এলিন প্রশ্ন করলো,
আপনি পড়াশোনা কখন শেষ করেছেন?

শাহাদ সম্বিত পেয়ে জিজ্ঞেস করলো,
কেমন পড়াশোনা? পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন?
ইয়েস।
বারো বছর আগে।
কিহ?
এলিন চমকে তাকালো।
মুখের এমন ভঙ্গি করলো যেন ভূত দেখেছে। আচমকা অদ্ভুত প্রশ্ন করে বসলো,
আপনার বয়স কত?
এবার শাহাদ প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে বললো, এক্সিউজ মি।
এলিনকে ওভাবে রেখেই শাহাদ সামনে হেঁটে গেলো। শাহাদ এক পর্যায়ে হলের মধ্যে দৌঁড় দিলো। সকলে এভাবে শাহাদকে দৌঁড়াতে দেখে বিস্মিত। দেলোয়ার সাহেব এগিয়ে আসছে। এলিন চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করছে,
শাহাদ দৌঁড়াচ্ছেন কেনো?

চলবে...

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url